না বলা ভালোবাসা

গল্পঃ না বলা ভালোবাসা
পর্বঃ ৫
Collected......


রেস্টুরেন্টের মালিকঃ ওকে যা....
তানজিলঃ ধন্যবাদ ভাইয়া...
এটা বলেই তানজিল সেখান থেকে চলে আসলো....
তানজিল তার রুমে গিয়ে বিয়ের কার্ডটি হাতে নিলো...
আর ভাবতে লাগলো সুস্মিতা আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করার পিছনে নিশ্চয়ই একটা কারন আছে....
আমাকে জানতে হবে কেন আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করেছে....
হঠাৎ মনে পড়ে গেল সুস্মিতার কিছু কথা....
সুস্মিতা থাপ্পর দেয়ার সময় বলে ছিলো, তোর মতো ছোট লোকের কারো মন বুঝার মতো ক্ষমতা নেই, এটা বলে সুস্মিতা কি বুঝাতে চেয়েছে....
তার মানে সুস্মিতা কি আমাকে ভালোবাসে, আর এটি বলার জন্যই হয়তো এসে ছিলো....
আমাকে সত্যিটা অবশ্যই জানতে হবে, বিয়ের আর মাত্র ৩ দিন বাকি সুতরাং আমাকে যা করতে হবে বিয়ের আগেই সব করতে হবে....
তারপর বিয়ের কার্ডটি তাড়াহুড়ো করে তানজিল খুললো...
আর খোলা মাত্রই একটা নাম্বারের উপর মুহূর্তের মধ্যে চোখ পড়লো...
নাম্বারটা ছিল সুস্মিতার আব্বুর....
তানজিল একটু ও দেরি না করে নাম্বারটা নিজের মোবাইলে সাথে সাথে তুলে নিল....
হঠাৎ এমন সময় একটা Unknown নাম্বার থেকে ফোন আসলো....
তারপর তানজিল ফোনটা রিসিভ করে কন্ঠটা শুনা মাত্রই বুঝতে আর বাকি রইলো না এটা তার পরিচিত কেউ একজন....
সারিকাঃ হ্যালো তানজিল আমি সারিকা বলছি...
তানজিলঃ কন্ঠ শুনেই আমি বুঝতে পেরেছি এটা তুমি, কেমন আছো সারিকা...??
সারিকাঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো....??
তানজিলঃ আছি কোন রকম....
সারিকাঃ তানজিল তোমার সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিল....
তানজিলঃ কি বলতে চাও বলো....
সারিকাঃ মোবাইলে বলা যাবে না, তুমি প্লিজ আমার সাথে এখন দেখা করো, প্লিজ না বলো না.....
তানজিলঃ ওকে....
এই ভাবে কথাবার্তা শেষ করে তানজিল এবং সারিকা একে অপরের মুখো মুখি হলো....
তানজিলঃ সারিকা কি বলতে চাও একটু তারাতারি বলো...??
সারিকাঃ সুস্মিতা এই চিরকুটটা তোমাকে দিতে বলছে....
তানজিলঃ তুমি সুস্মিতাকে চিনো কি ভাবে....??
সারিকাঃ সুস্মিতা আমার ছোট বেলার বান্ধবী, আর প্রাইমারি থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত আমরা এক সাথেই পড়েছি....
এর পর থেকেই আমরা আলাদা হয়ে যাই, আর ভিন্ন ভিন্ন কলেজে পড়তে শুরু করি....
কিন্তু আমাদের মধ্যে সব সময় মোবাইলে যোগাযোগ হতো....
কারন, আমরা ছিলাম একজন-অন্যজনের বেস্ট ফ্রেন্ড....
যেটা হয়তো তুমি জানতে না...
আর সুস্মিতার মুখ থেকে আমি প্রায় তোমার কথা শুনতাম, তাই অনেক বার তোমার সাথে পরিচয় হতে চেয়েছি কিন্তু সুস্মিতা আমাকে তোমার সাথে পরিচয় হতে দেয় নি....
কারন, তুমি নাকি বড় লোকদের পছন্দ করো না....
তাছাড়া আমার সাদাসিধে পোশাক কখনো পছন্দ না, তাই সুস্মিতা ইচ্ছে করেই আমাকে তোমার কাছ থেকে দূরে রেখেছে.....
যদি আমার কোন ব্যবহারে তুমি কষ্ট পাও.....
তানজিলঃ সারিকা একটা কথা আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে, প্লিজ সত্যটা বলবা....
সারিকা: ওকে বলো.....
তানজিলঃ মেডিকেলে সবাই আমার পোশাক নিয়ে হাসা-হাসি করতো, আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতো, এই সব কি তুমি সব কিছু সুস্মিতাকে জানাতে...??
সারিকাঃ হ্যাঁ....
তানজিলঃ আচ্ছা আমি কাউকে ভালোবাসি কিনা, সেই দিন তুমি হঠাৎ করে কেনো জানতে চাইলে....??
সারিকাঃ সুস্মিতার সাথে আজকে তোমার কথা হয় নি...??
তানজিলঃ হয়েছে....
সারিকাঃ সুস্মিতা কি বলেছে তোমাকে....??
তানজিলঃ সুস্মিতা আমাকে কি যেন বলতে চেয়েছে, কিন্তু যখনি আমি বললাম সুস্মিতা তুমি তো অনেক সুখেই থাকবে, যার সাথে বিয়ে হবে ছেলে দেখতে অনেক সুন্দর, স্মার্ট এবং ভালো বেতনের চাকুরি করে....
এই কথা গুলো শুনা মাত্রই সুস্মিতা আমার গালে কয়েকটা থাপ্পর বসিয়ে দিল.....
আর বলতে লাগলো....
আমার মতো ছোট লোকের কারো মন বুঝার মতো ক্ষমতা নেই, তারপর কান্না করতে করতে চলে আসলো.....
সারিকাঃ তারপরও কি তোমার এখনো বুঝার বাকি আছে ও তোমাকে কি বুঝাতে চেয়েছে.....
তানজিলঃ তার মানে কি সুস্মিতা আমাকে ভালোবাসে....??
সারিকাঃ শুধু ভালোবাসে এটা বললে হয়তো কম হয়ে যাবে....
কারন, সুস্মিতার কাছে তুমি তার জীবন থেকে ও দামি....
আর তার প্রমান হচ্ছে....
যে সুস্মিতা সারাক্ষণ স্টাইলিস জীবন যাপন লাইক করতো সেই সুস্মিতা তোমার জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে বিন্দু মাত্র দ্বিধাবোধ করে নি....
এমন কি মেডিকেলের জন্য সুস্মিতা যে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে ছিল....
সেখান থেকে পাওয়া সমস্ত বইগুলো নিজে না পড়ে তোমাকে দিয়ে দিতো, আর তোমার সাথে মিথ্যে অভিনয় করে যেতো যে, সুস্মিতার পড়া শেষ.....
অথচ সুস্মিতা পাওয়া মাত্রই সব গুলো বই তোমাকে দিয়ে দিতো....
পরে আমি পড়া শেষ করে সুস্মিতাকে আমার বই গুলো দিতাম, তার পরে সুস্মিতা সেগুলো পড়তো.....
এছাড়া কলেজে থাকা অবস্হায় ও সুস্মিতা তোমাকে পড়া বুঝানোর জন্য ইচ্ছে করে অনেক কোচিং মিস করতো....
কারন, কোচিং এর সময়টা তোমার পিছনে দিতে হতো....
এছাড়া তুমি নাকি ফ্রি থাকো না....
আর মেডিকেলের কথা যদি বলি তাহলে শুনো....
মেডিকেলের প্রত্যেক সেমিষ্টারের টাকা সুস্মিতা দিয়ে দিতো, আর তুমি যেন কিছুই বুঝতে না পারো, তাই তোমার কাছ থেকে হাফ সেমিষ্টারের টাকা নিতো....
যাতে করে তুমি কাউকে এই বিষয়ে সন্দেহ না করো....
আর আজকে সুস্মিতা তোমার কাছে ছুটে এসে ছিল কেনো জানো...??
দীর্ঘ ৫ বছরের জমে থাকা না বলা ভালোবাসার কথাটি তোমার কাছে প্রকাশ করতে....
হয়তো পরিস্হিতির কারনে সুস্মিতার কাছে আজো না বলা ভালোবাসার কথাটি না বলাই রয়ে গেল.....
কিন্তু, আজকে আমার এখানে আসা একটাই কারন, হলো ওর এই চিরকুটটা তোমার কাছে পৌঁছানোর জন্য....
তানজিলঃ দাও তো চিরকুটটা....
সারিকাঃ এই নাও.....
অতঃপর চিরকুটটা হাতে নিয়েই তানজিলের চোখের পানি পড়তে লাগলো.....
কারণ চিরকুটে লিখা ছিলো....
প্রিয় জান পাখি আমার ব্যবহারের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ, আমি তোমার সামনে এসে কিংবা ফোন করে যে ক্ষমা চাইবো সেই অবস্হা আমার নেই....
এই রকম কিছু একটা ঘটে যাবে আমি কখনো ভাবি নি, কিন্তু তুমি বিশ্বাস করো তোমার গালে থাপ্পর দেয়াতে তোমার মনে যতটা ক্ষত সৃষ্টি হয়ে তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আমার এই মন....
সেটা হয়তো তোমাকে বুঝাতে পারবো না....
তার পরে ও বলি....
প্লিজ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও.....
আর হ্যাঁ একটি কথা না বললেই নয়, আমার না বলা কথাটি সারা জীবন না বলাই রয়ে গেল.....
চিরকুটটা পড়ার পর তানজিলের চোখের পানি গুলো অবিরাম ভাবেই পড়তে লাগলো.....
সারিকাঃ তানজিল এখন কান্না করে কি লাভ, যা ঘটার তা তো ঘটেই চলছে.....
যদি পারো তাহলে সুস্মিতার বিয়েতে শেষ বারের মতো এসে সুস্মিতাকে দেখে যেও.....
আমি এখন আসি....
এটা বলেই সারিকা চলে গেল.....
তারপর তানজিল সিদ্ধান্ত নিলো....
নিহালকে সব কিছু খুলে বলবে, তাহলে হয়তো নিহাল sacrifice করবে....
তাই সাথে সাথে মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে নিহালকে ফোন দিল....
তানজিলঃ নিহাল ভাইয়া আপনার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা ছিল, প্লিজ ভাইয়া একটু দেখা করেন....
নিহালঃ ভাইয়া আমি তো এখন বিয়ের কেনাকাটা করছি, তাই তুমি বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে চলে এসো.....
তানজিলঃ ওকে ভাইয়া আমি আসতেছি....
এটা বলেই তানজিল নিহালের কাছে চলে আসলো....
নিহালঃ তানজিল কিসের জন্য দেখা করতে বলছো....??
তানজিলঃ ভাইয়া আপনার কাছে আমার একটা রিকুয়েস্ট ছিল, ছোট ভাই হিসাবে....
নিহালঃ আচ্ছা ঠিক আছে বলো তুমি.....
তানজিলঃ ভাইয়া আপনি বিয়েটা করবেন না প্লিজ....
নিহালঃ মানে....??
তানজিলঃ আমি সুস্মিতাকে ভালোবাসি ভাইয়া, আমার জীবন থেকেও বেশি ভালোবাসি, তাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে সুস্মিতাকে বিয়েটা করবেন না, প্লিজ ভাইয়া....
নিহালঃ তানজিল এই সব কি বলছো তুমি, কোথায় সুস্মিতা আর কোথায় তুমি....
তুমি তো সুস্মিতার একটা জুতার ও যোগ্য না....
তুমি হলে একটা মূর্খ তার মধ্যে গরিব, ছোট লোক....
ঠিক মতো এক বেলা খেতে ও পারো না.....
আর তোমার মুখ দিয়ে সুস্মিতাকে ভালোবাসার কথাটি মানানসই না....
আর ইতোমধ্যে বিয়ের দাওয়াত দেয়া থেকে সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, শুধু মাত্র বিয়েটা বাকি আর তুমি কিনা এখন উল্টা-পাল্টা কথা বলছো.....
তানজিলঃ প্লিজ ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে Sacrifice করেন, প্লিজ ভাইয়া প্লিজ.....
নিহালঃ আসলে তোর মতো ছোট লোকের বাচ্চার সাথে আমার কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, তুই এখান থেকে যেতে পারিস.....
তানজিলঃ প্লিজ ভাইয়া একটু বুঝতে চেষ্টা করেন.....
নিহালঃ তোর মতো ছোট লোকের বাচ্চার কি কথা শুনবো...??
তোর চেয়ে ভালো কাপড়-চোপড় পড়ে, আমার বাসার চাকর.…
তাই আজকের পর যদি পারিস সম্মান দিয়ে কথা বলবি, আর না পারলে কখনো আমার সামনে আসবি না.....
যা এখান থেকে ছোট লোকের বাচ্চা....
তানজিলঃ বা কি দারুন দৃশ্য, ৩ বছর আগে যে ছেলে চাকুরির জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো, আজকে সেই ছেলে আমাকে তার চাকরের সাথে তুলনা করে.....
অথচ আজকে আপনার এই অবস্হানে আসার পিছনে আমার অবদানটাই ছিল মূখ্য....
কারন, আমি যদি সেই দিন আমার বন্ধুকে ফোন করে না বলতাম আপনার কথা তাহলে এই অবস্হানে আসা তো দূরের কথা রাস্তায় পরে থাকতেন.....
আর আপনি এই ৩ বছরের মধ্যেই সব ভুলে গেলেন.....
নিহালঃ আমি আমার যোগ্যতা দিয়ে চাকুরি পেয়েছি, তোর মতো মূর্খের অবদানে না....
ছোট লোকের বাচ্চা এখান থেকে যা বলছি.....
তানজিলঃ সময় বলে দিবে কে ছোট লোক আর কে বড় লোক....
এটা বলেই তানজিল সেখান থেকে চলে আসলো.....
তারপর অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলো, যা হবার হবে এবার সুস্মিতার আব্বুর মুখো মুখি হয়ে বিয়েটা আপাতোত বন্ধ করতে হবে....
তা না হলে সারা জীবন আমি সুস্মিতার কাছে ঋণী হয়ে থাকবো....
এই সব চিন্তা-ভাবনার পর তানজিল সুস্মিতার আব্বুকে ফোন দিল....
সুস্মিতার আব্বুঃ হ্যালো...
তানজিলঃ আসসালামুআলাইকুম আংকেল....
সুস্মিতার আব্বুঃ ওয়ালাইকুমআসসালাম....
তানজিলঃ কেমন আছেন আংকেল....??
সুস্মিতার আব্বুঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো কিন্তু কে তুমি..??
তোমাকে তো চিনতে পারলাম না....??
তানজিলঃ আংকেল আমি সুস্মিতার ফ্রেন্ড, আপনার সাথে কিছু জরুরি কথা ছিল....
যদি দয়া করে একটু সময় দিতেন, অনেক উপকার হতো....
সুস্মিতার আব্বুঃ আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি আমার চেম্বারে চলে এসো....
তানজিলঃ ধন্যবাদ আংকেল আমি এখনি চলে আসতেছি...
এই ভাবে কথাবার্তা শেষ করে তানজিল সুস্মিতার আব্বুর সাথে দেখা করলো....
সুস্মিতার আব্বুঃ কি হয়েছে বাবা বলো....??
তানজিলঃ আংকেল সুস্মিতার কি এই বিয়েতে মত আছে...??
সুস্মিতার আব্বুঃ হঠাৎ এই প্রশ্ন....??
তানজিলঃ আংকেল আপনাকে সব কিছুই খুলে বলবো....
আংকেল আমি আর সুস্মিতা ইন্টারমিডিয়েটে এক সাথেই পড়া-শোনা করতাম.....
সুস্মিতার অবদানের কারনেই আজকে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ছি....
সুস্মিতার আব্বুঃ কি তুমি ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট আর তোমার পোশাকের এই অবস্হা কেন....??
তোমার আব্বু কি করে....??
তানজিলঃ আংকেল পোশাক দেখে নিশ্চয়ই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট কিনা....
আচ্ছা দেখেন আমার আইডি কার্ড....
এই নিন, এটা বলেই তানজিল সুস্মিতার আব্বুর কাছে নিজের আইডি কার্ডটি দিল.....
সুস্মিতার আব্বুঃ ঠিকি তো তুমি ঢাকা মেডিকেলের স্টুডেন্ট....
আচ্ছা তোমার আব্বু কি করে বললে নাতো....
তানজিলঃ আংকেল আব্বুর পরিচয়তা বাদ দেন, যদি অনুমতি দেন তাহলে
যেটার জন্য আপনার কাছে এসেছি সেই বিষয়ে কথা বলতে পারি...??
সুস্মিতার আব্বুঃ ওকে বলো...
তানজিলঃ আংকেল আমি আর সুস্মিতা একে অপরকে প্রায় ৫ বছর যাবত ভালোবাসি....
তাই আপনার কাছে আমার অনুরোধ এই বিয়েটা বন্ধ করেন প্লিজ……
আর সুস্মিতার বিয়ে হলে সুস্মিতা এবং আমার ২ জনের জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে, তাছাড়া পাশাপাশি নিহাল ভাইয়ার জীবনটা ও.....
প্লিজ আংকেল এই তিনটি জীবন নিজ হাতে নষ্ট করবেন না....
সুস্মিতার আব্বুঃ তোমার পোশাক দেখে তো মনে হয় কোন ছোট লোক ফ্যামিলির ছেলে, আর তোমার কি করে সাহস হলো আমার সামনে এই সব কথা বলার....
তুমি তো নিজেই পোশাক পড়তে পারো না, কি করে আমার মেয়ের ভরন-পোষন দিবে.....
আমার মেয়ের এক জোড়া জুতার দাম দেয়ার মতো সামর্থ্য যার নেই সে কি করে স্বপ্ন দেখে আমার মেয়েকে নিয়ে....
তোমার মতো ছোট লোকদের চেয়ে আমার বাসার দারোয়ান ও ভালো পোশাক পড়ে, আর তুমি জানো কার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হবে...??
ছেলে এই শহরের সবচেয়ে বড় কোম্পানীতে জব করে,,
যার মাসিক বেতন ১,০০,০০০+ আর যার জুতার যোগ্য ও তুমি নও....
সুতরাং আমার সময় নষ্ট না করে এখান থেকে তুমি যাও....
তানজিলঃ বাহ আংকেল আপনি ও অন্য সবার মতো, মানুষকে টাকা দিয়ে বিবেচনা করেন কিন্তু মানুষের মন বুঝার মতো ক্ষমতা আপনাদের নেই....
অনেক আশা নিয়ে আপনার কাছে এসে ছিলাম কিন্তু এখন দেখি আপনি ও সমাজের সেই সব মানুষের পক্ষে যারা টাকা ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই চিনে না....
আংকেল নিজের পরিচয়টা দেয়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিলো না কিন্তু সুস্মিতার ভালোবাসার জন্য আর আপনার মতো ধনীদের জন্য নিজের পরিচয়টা না দিয়ে আর থাকতে পারলাম না.....
আমার বাবার পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন, আর আমার পোশাক দেখে মনে হলো আমি আপনার কাছে নিহালের জুতার ও যোগ্য না....
তাহলে আমার বাবা কে আগে জেনে নেন কিন্তু পরিচয় পাওয়ার পরে নিজে আবার সেন্সলেস হয়ে যাবেন না প্লিজ....
সুস্মিতার যে ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক, আমি সেই কোম্পানীর মালিকের ছেলে....
অর্থাৎ আমার কোম্পানীর একজন কর্মচারীর সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে....
আর এই কর্মচারী নিহালের চাকুরিটার ব্যবস্হা করে ছিল কে জানেন...?
এই তানজিল....
যার পরিচয় আজো নিহাল জানে না....
নিহালের অবস্হা দেখে আমি নিজে বাধ্য হয়ে আমাদের ম্যানেজারকে ফোন দেই, যেন নিহালকে চাকুরিটা দিয়ে দেয়.....
যদি ও নিহাল চাকুরির যোগ্য ছিল না....
নিহালের যোগ্যতা ছিল অনার্স ফাস্ট ইয়ার পর্যন্ত আর চাকুরীতে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে সবাই ছিল মাষ্টারস কমপ্লিট করা স্টুডেন্ট....
যেখানে আমার কোম্পানীর দারোয়ান হওয়ার যোগ্যতা নিহালের ছিল না, সেখানে এই তানজিলের কারনে নিহাল আজকে আমার কোম্পানীর কর্মচারি.....
আর সেই নিহাল আপনার মতো আমাকে ছোট লোক, ক্ষেত বলে অনেক অপমান করেছে....
কিন্তু, তারপরে ও আমি আমার পরিচয় দেই নি....
কেনো জানেন....??
আমার আব্বু আমাকে একদিন বলে ছিল....
আমাকে সন্তান হিসাবে পরিচয় দিতে ও নাকি আমার আব্বুর লজ্জা লাগে....
কারন, আমি দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম আর বিলাসিতাময় জীবনের অধিকারী....
যার কারনে আমার কথা বিশ্বাস না করে, একটি মিথ্যে কথার উপর ডিপেন্ড করে আমাকে এই কথাটি বলে ছিল.....
আর এটা ও বলে ছিল আমি প্রকৃত পক্ষে মানুষ হওয়ার আগ পর্যন্ত যেন আমার এই মুখ নিয়ে আব্বুর সামনে না যাই....
তাই সেই দিনের পর থেকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য রাজ-প্রসাদ ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসি....
যদি ও সেই দিন অন্যায়টা আমার ছিল না....
তারপরে ও নিজের জন্মদাতা আব্বুর কথা রাখতে নিজের সুখ গুলো বিসর্জন দিয়ে, রাস্তায় জীবন-যাপন করতে শিখি.....
অনেক অপমানিত -লান্চিত হয়েছি, তারপরেও নিজের পরিচয় একটি বারের জন্য কাউকে দেই নি.....
পরিচয় দেই নি কেনো জানেন...??
নিজের ফ্যামিলিকে আমি কখনো আসামী কাঠগড়ায় ধার করাতে চাই নি, আর কখনো কাঠগড়ায় দার করানোর ইচ্ছে ও আমার নেই....
তাইতো বার বার ছোট লোক ক্ষেত হিসাবে সকলের কাছে স্বীকৃতি পাচ্ছি....
আজ থেকে প্রায় দীর্ঘ ৬ টা বছর আমি ফ্যামিলি বিহীন রাজ-প্রসাদ ছেড়ে, রাস্তার ছেলে হিসাবে বড় হচ্ছি....
টার্গেট একটাই আব্বুর যোগ্য ছেলে হিসাবেই আব্বুর সামনে যাবো, তার আগে কখনো আমার মুখটা নিয়ে আমার ফ্যামিলির কারো সামনে যাবো না....
তাইতো ডাক্তার হওয়ার জন্য আজো যুদ্ধ করছি....
এখন যদি মনে করেন আপনার মেয়ের জন্য এক জোড়া জুতা কিনার মতো সামর্থ্য আমার নেই, তাহলে আপনাকে কিছু বলার মতো ভাষা আমার জানা নেই....
কিন্তু আমি আজকে এটা বুঝতে পাচ্ছি সুন্দর ক্যারিয়ার অর্থাৎ টাকা-পয়সা বিহীন প্রেম/ভালোবাসা মূল্যহীন....
আর হ্যা আংকেল যদি পারেন তাহলে দয়া করে বিয়েটা বন্ধ করেন.....
আর আমি ডাক্তার হওয়ার সাথে সাথেই রাজ-প্রসাদের ছেলে রাজ-প্রসাদে চলে যাবো....
তার পর সুস্মিতাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়েই আমার বউ করে নিবো.....
আর হ্যা আংকেল দয়া করে আমার পরিচয়টা গোপন রাখবেন এমন কি সুস্মিতার কাছে ও.....
এখন কি করবেন আপনি ভেবে দেখেন....(এই কথা গুলো বলার সময় তানজিলের চোখ দিয়ে অনাড়গড় পানি পড়তে লাগলো)
আর অন্য দিকে সুস্মিতার আব্বু ও তানজিলের কথা গুলো শুনে চোখের পানি না ফেলে থাকতে পারলো না....

বিঃদ্রঃ সুন্দর ক্যারিয়ার ছাড়া কোন বাবা-মা তার মেয়েকে কোন ছেলের হাতে তুলে দিবে না, এটাই চিরন্তন সত্য....


হ্যালো, বন্ধুরা আপনারা যারা নিয়মিত গল্প

পড়তে আগ্রহি, তারা আমার এই সাইটটিতে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন , আমি নতুন পস্ট করলেই আপনাদের কাছে নোটিফিকেশন

চলে যাবে.......

506
222 comments
11 shares
Like
Comment
Share

Post a Comment

1 Comments