গল্পঃ না বলা ভালোবাসা
আর অন্য দিকে সুস্মিতার আব্বু ও তানজিলের কথা গুলো শুনে চোখের পানি না ফেলে থাকতে পারলো না.....
সুস্মিতার আব্বুঃ তানজিল এই মুহূর্তে তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে গর্বিত ছেলে.....
কারন তোমার মতো সন্তানের বাবা-মা সবাই হতে পারে না....
তোমার বাবা-মা অনেক সৌভাগ্যবান তোমার মতো একটা ছেলে পেয়েছে.....
আমি তোমার ধন-সম্পত্তির কথা শুনে তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেয়ার কোন ইচ্ছে না থাকলে ও তোমার কর্মফলের কথা শুনে আর তোমার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস দেখে তোমার সাথে সুস্মিতার বিয়ে না দিলে, স্বয়ং আল্লাহ ও আমাকে ক্ষমা করবে না.....
তুমি নিশ্চিত থাকো বাবা আমার সুস্মিতা তোমার ছিল এবং তোমারি থাকবে..…
তানজিলঃ ধন্যবাদ আংকেল, আর হ্যাঁ আংকেল আরেকটি কথা....
আপনার সাথে আমার যা যা কথা হয়েছে, সুস্মিতা যেন কখনো কিছুই না জানে....
কারন আমাদের বিয়েটা আমি সুস্মিতাকে সারপ্রাইজ দিতে চাই.....
সুস্মিতার আব্বুঃ ওকে বাবা, তোমার কথা মতোই সব কিছু হবে....
ওকে আংকেল তাহলে আমি এখন আসি....
এটা বলেই তানজিল সেখান থেকে চলে আসলো....
তার পর সুস্মিতার আব্বু নিহালকে ফোন দিল....
সুস্মিতার আব্বুঃ নিহাল তুমি আমার সাথে এখনি আমার অফিসে দেখা করো.....
নিহালঃ ওকে আংকেল...
অতঃপর সুস্মিতার আব্বুর কথা মতো নিহাল সুস্মিতার আব্বুর অফিসে চলে আসলো....
সুস্মিতার আব্বুঃ নিহাল মনে কিছু করো না বাবা, তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হবে না.....
তুমি অন্য কোন মেয়ে দেখতে পারো.....
নিহালঃ এই সব কি বলছেন আংকেল, এখন যদি বিয়ে না হয় মান-সম্মান তো ধুলোবালির সাথে মিশে যাবে....
সুস্মিতার আব্বুঃ এই সব নিয়ে আমি ভাবি না, যা হবার হবে....
কিন্তু, এটা পরিষ্কার তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না....
নিহালঃ আচ্ছা এখন বুঝতে পেরেছি....
নিশ্চয়ই ওই ছোট লোকের বাচ্চা তানজিল সুস্মিতাকে নিয়ে পালিয়েছে.....
যার জন্য আপনি এখন এই নাটক শুরু করছেন....
সুস্মিতার আব্বুঃ যাষ্ট শাট আপ মুখ সামলে কথা বলো আর কে ছোট লোকের বাচ্চা ঐটা সময় বলে দিবে, আর হ্যাঁ উল্টা-পাল্টা কথা না বলে এখন তুমি আসতে পারো.....
এই ভাবেই কথাবার্তার মাধ্যমে নিহাল এবং সুস্মিতার বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়....
তারপর নিহাল সেখান থেকে চলে আসলো....
অতঃপর সুস্মিতার আব্বু বাসায় গিয়ে দেখে সুস্মিতার চোখ গুলো ভীষণ লাল, দেখলেই বুঝা যায় মেয়েটি কান্না করে চোখের এই অবস্হা করেছে....
সুস্মিতা আব্বুঃ তোর চোখের এই অবস্হা কেনো....??
সুস্মিতাঃ এমনি...
সুস্মিতার আব্বুঃ শোন তোর বিয়ে আর হচ্ছে না, বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি.....
যত দিন না তোর ডাক্তারি পড়া শেষ হচ্ছে, ততো দিন তোর বিয়ে নিয়ে আর কথা হবে না....
সুস্মিতা কথাটি শুনামাত্রই তার আব্বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না কান্না কন্ঠে বলতে লাগলো....
আব্বু তুমি আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আব্বু....
সুস্মিতার আব্বু তো সবই জানে, তাই একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললো....
মা তুই এখন খুশি তো....
সুস্মিতাঃ আব্বু এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি, এ মুহূর্তে আমার চেয়ে সুখী পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কেউ আছে বলে জানা নেই....
এই ভাবে কথা বার্তা শেষ করে সুস্মিতা তার রুমে চলে যায়....
আর রুমে গিয়েই সারিকাকে ফোন দিয়ে বললো....
সুস্মিতাঃ সারিকা ইয়াহু আমার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে, আর আব্বু বললো, আমার ডাক্তারি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, আমার বিয়ে নিয়ে আর কোন কথা হবে না....
সারিকাঃ সত্যি...??
সুস্মিতাঃ হ্যাঁ সত্যি....
এই ভাবেই সুস্মিতা আর সারিকা একে অপরের সাথে কথাবার্তা শেষ করলো....
তারপর সারিকা ফোনটি রাখা মাত্রই একটু চিন্তা করতে লাগলো....
হঠাৎ বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার পিছনে নিশ্চয়ই একটা রহস্য লুকিয়ে আছে, আর এই রহস্যের মূল কারনটাই তানজিলকে ঘিরে....
কেননা সব কিছু তানজিল জানার পরেই, সব কিছুই উল্টা-পাল্টা হয়ে গেল....
আর নতুন একটা রহস্যের সৃষ্টি হলো.....
তারপর সারিকা অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলো...
এই রহস্যের কারনটি জানতে হবে....
আর এই জন্য তানজিলের সাথে খুব ভালো করে মিশতে হবে.....
আর অপর দিকে তানজিল আগের মতো কাজ করতে লাগলো এবং পাশাপাশি পড়া-শোনাটা ও চালিয়ে নিতে লাগলো....
কিন্তু সেই ঘটনার পর থেকে সুস্মিতা সব সময় সারিকার মাধ্যমে তানজিলের খবর নেয় কিন্তু কখনো আর তানজিলের সামনে আসে না.....
যদি ও দূর থেকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে সাহায্য করে যাচ্ছে.....
আর অন্য দিকে তানজিল ও সারিকার মাধ্যমে সুস্মিতার খবর নেয় কিন্তু সুস্মিতার সাথে তার আর কথা হয় না....
এই ভাবেই চলছে সুস্মিতা আর তানজিলের ভালোবাসা.....
ইতোমধ্যে সারিকা এবং তানজিল একে-অপরের অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেছে....
যার কারনে একজন আরেকজনের পাশাপাশি চলে.....
হঠাৎ একদিন সারিকা এবং তানজিল একটা ভালো মান-সম্মত রেস্টুরেন্টে খেতে গেল....
যদি ও তানজিলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এখানে আসা হয়েছে.....
খাওয়া শেষে সারিকা যখন ২,৭৯০টাকা বিল পরিশোধ করতে যাবে, এমন সময় সারিকা দেখলো তার ব্যাগের মধ্যে এক টাকা ও নেই অর্থাৎ টাকা চুরি হয়ে গেছে.....
যা সারিকা এবং তানজিল কেউ জানতো না......
সারিকা ব্যাগটি খোলা মাত্রই এই অবস্হা দেখে কি করবে বুঝতে পারছে না, অর্থাৎ চেহারার মধ্যে একটা মনমরা ভাব দেখা দিলো....
তানজিল বিষয়টি দেখা মাত্রই বলতে শুরু করলো.....
তানজিলঃ সারিকা কোন সমস্যা...??
সারিকাঃ তানজিল আমার ব্যাগটি রেখে আমি যখন ক্লাস থেকে বাহিরে বের হয়ে ছিলাম, তখন মনে হয় আমার সমস্ত টাকা চুরি হয়ে গেছে, ব্যাগের মধ্যে একটা টাকা ও নেই.....
এখন আমি কি করবো....??
তানজিলঃ ভয়ের কারন নেই, আমি দেখছি কি হয়....
সারিকাঃ মানে...??
তানজিলঃ মানে কিছু না, আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি.....
সারিকাঃ তুমি এতো টাকা পাবে কোথায়....??
তানজিলঃ টাকা নেই কিন্তু এই টাকা পরিশোধ করার মতো জিনিস আছে.....
সারিকাঃ তোমার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না...??
তানজিলঃ তোমার কিছুই বুঝতে হবে না, এটা বলেই তানজিল নিজের মানি ব্যাগটি খুলে সেখান থেকে একটি আংটি ২,৭৯০ টাকার বিনিময়ে দিয়ে দিলো....
তারপর সেখান থেকে চলে আসলো.....
সারিকাঃ এই তানজিল তুমি স্বর্ণের আংটি পেলে কোথায় আর ২,৭৯০ টাকার বিনিময়ে আংটিটা দিয়ে দিলে.....
তানজিলঃ আমি যখন SSC পরীক্ষায় GPA 5 অর্জন করি, তখন আংটিটা আমাকে একজন গিফট করেছিল, আর আমার কাছে আমার এই আংটিটার চেয়ে তোমার মান-সম্মানটা বড় ছিল.....
তাই আংটিটা দিতে দ্বিধাবোধ করিনি কিন্তু আমার কাছে যখন টাকা হবে, তখন টাকা দিয়ে আংটিটা ফেরত নিয়ে আসবো....
কারন, আংটিটা আমার মায়ের দেয়া স্মৃতি......
সারিকাঃ তা হলে তুমি না দিলে ও পারতে, আমি বাসায় ফোন দিয়ে বলে দিতাম ভাইয়াকে টাকা নিয়ে আসতে.....
আর টাকা নিয়ে আসতে যতক্ষণ সময় লাগতো, আমরা সেখানে ততোক্ষণ থাকতাম.....
তানজিলঃ কি দরকার অযথা মানুষের কথা শোনা, তার চেয়ে ভালো হয়েছে আংটি দিয়ে দিলাম, পরে টাকা দিয়ে নিয়ে আসবো......
এই ভাবেই কথাবার্তা শেষ করে সারিকা এবং তানজিল যার যার স্হানে চলে গেল....
অন্য দিকে সারিকা বাসায় গিয়ে সুস্মিতাকে সব কিছু খুলে বললো.....
তারপর সুস্মিতা আর সারিকা এসেই তানজিলের অজান্তে টাকা দিয়ে হোটেল থেকে আংটিটা নিয়ে গেল....
এখন আংটিটা সব সময় সুস্মিতা তার হাতে দিয়ে রাখে, ভালোবাসার মানুষের স্মৃতি হিসাবে.....
এই ঘটনার প্রায় বিশ দিন পর টাকা নিয়ে তানজিল যখন আংটিটা নিয়ে আসার জন্য গেল.....
তখন হোটেলের মালিক বললোঃ আংটিটা বিক্রি হয়ে গেছে অর্থাৎ টাকা বেশি পেয়ে সুস্মিতার কথা মতো শেখানো কথা গুলোই তানজিলকে বলেছে.....
যার জন্য তানজিল মনটা খারাপ করে সেখান থেকে চলে আসলো.....
কারন আংটিটা ছিল তার মায়ের দেয়া গিফট....
এই ভাবেই একের পর এক দিন যেতে লাগলো.....
সুস্মিতা এবং তানজিল কেউ কারো সাথেই কথা বলে না শুধু সারিকার মাধ্যমেই একজন আরেক জনের খোঁজ খবর রাখে, যদি ও নিজের জীবনের চেয়ে ও বেশি একজন আরেকজনকে ভালোবাসে....
কিন্তু, আজো অব্দি সুস্মিতা জানতে পারেনি তানজিল তাকে ভালোবাসে কি না.....
আর এই দিকে তানজিল ও সুস্মিতাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য এবং বাবার যোগ্য সন্তান হওয়ার জন্য দিন রাত কষ্ট করে যাচ্ছে.....
অবশেষে ডাক্তারি পরীক্ষা দিয়ে তানজিল, সুস্মিতা এবং সারিকা যেদিন ডাক্তার হয়ে বের হলো.....
সেই দিন বিকেলেই সারিকা, তানজিল এবং সুস্মিতাকে মুখোমুখি করার জন্য
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের মধ্যে একটা রেস্টুরেন্টে ডাকলো....
যেটা তানজিল এবং সুস্মিতা জানে না, তারা একজন আরেকজনের মুখোমুখি হচ্ছে.....
অবশেষে সারিকার কথামতো রেস্টুরেন্টে গিয়েই তানজিল এবং সুস্মিতা পুরাই বিস্মিত....
কারন, তানজিল এবং সুস্মিতা কখনো আশা করেনি এই ভাবে একে অপরের মুখোমুখি হবে.....!
যার কারনে ২ জনেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে যার যার চেয়ারে বসে পড়লো.....
অর্থাৎ এমন সময় হঠাৎ নিহালের আগমন সাথে নিহালের বউ ও....
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে মেয়েটি নিহালের বউ, সেই মেয়েটি হচ্ছে তানজিল আর সারিকার ক্লাসমেট....
যার নাম সুরাইয়া, আর মেয়েটি ছিল বদ্য অহংকারী....
যার কারনে তানজিল বার বার অনেক অপমানিত হয়েছে....
আর সেই জন্যই তানজিল আর সারিকাকে এখানে দেখা মাত্রই সুরাইয়া স্তব্দ হয়ে যায়....
আর অন্য দিকে তানজিল আর সুস্মিতাকে এক সাথে দেখা মাত্রই নিহাল নিজেও হতস্তব্দ হয়ে যায়...

0 Comments